তাওরাতে কি মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল?
মুসলিমদের তাওরাত অধ্যয়নে আগ্রহী হওয়ার একটি কারণ হলো—কুরআন অনুযায়ী, তাওরাতে মুহাম্মদের আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে:
ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِىَّ ٱلْأُمِّىَّ ٱلَّذِى يَجِدُونَهُۥ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِى ٱلتَّوْرَىٰةِ وَٱلْإِنجِيلِ يَأْمُرُهُم بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَىٰهُمْ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَـٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ ٱلْخَبَـٰٓئِثَ وَيُضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَٱلْأَغْلَـٰلَ ٱلَّتِى كَانَتْ عَلَيْهِمْ ۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِهِۦ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلنُّورَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ مَعَهُۥٓ ۙ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ
‘যাহারা অনুসরণ করে বার্তাবাহক উম্মী নবীর, যাহার উল্লেখ তাওরাত ও ইন্জীল, যাহা তাহাদের নিকট আছে তাহাতে লিপিবদ্ধ পায়, যে তাহাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে বাধা দেয়, যে তাহাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে ও অপবিত্র বস্তু হারাম করে এবং যে মুক্ত করে তাহাদেরকে তাহাদের গুরুভার হইতে এবং শৃংখল হইতে- যাহা তাহাদের উপর ছিল। সুতরাং যাহারা তাহার প্রতি ঈমান আনে তাহাকে সম্মান করে, তাহাকে সাহায্য করে এবং যে নূর তাহার সঙ্গে অবতীর্ণ হইয়াছে উহার অনুসরণ করে তাহারাই সফলকাম।”
– সুরা আল-আ’রাফ ৭:১৫৭ –
কুরআন সকল মানুষকে, বিশেষ করে আহলে কিতাবকে, নবী মুহাম্মদকে অনুসরণ করতে উৎসাহিত করে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়, তাদের নিজেদের ধর্মগ্রন্থেই মুহাম্মদ সম্পর্কে লেখা রয়েছে। তাই তাওরাত পড়লে আহলে কিতাবের এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা যে, মুহাম্মদ সত্যিই আল্লাহর রাসুল। একই ধরনের বক্তব্য আমরা সূরা আল-বাকারা ২:১৪৬-এ দেখতে পাই:
ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَـٰهُمُ ٱلْكِتَـٰبَ يَعْرِفُونَهُۥ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَآءَهُمْ ۖ وَإِنَّ فَرِيقًۭا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ ٱلْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আমি যাহাদেরকে কিতাব দিয়াছি তাহারা তাহাকে সেইরূপ জানে যেইরূপ তাহারা নিজেদের সন্তানগণকে চিনে এবং তাহাদের একদল জানিয়া-শুনিয়া সত্য গোপন করিয়া থাকে। […].”
– সুরা আল-বাকারা ২:১৪৬ –
এই আয়াত থেকে বোঝানো হয় যে, আহলে কিতাবের যাদের আল্লাহ কিতাব দিয়েছেন, তারা মুহাম্মদকে আল্লাহর সত্য নবী হিসেবে চেনে, কারণ তারা নিজেদের ধর্মগ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে পড়েছে।
তবে কিছু মুসলিম বিশ্বাস করেন যে, বর্তমানে আমাদের কাছে থাকা তাওরাতে মুহাম্মদ সম্পর্কে সেই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আর নেই, কারণ ইহুদিরা তাওরাত বিকৃত করে সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য? মুহাম্মদ যখন সূরা আল-আরাফ ৭:১৫৭ এবং সূরা আল-বাকারা ২:১৪৬ আবৃত্তি করেছিলেন, তখন আল্লাহ এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে, মুহাম্মদের সময়ে বিদ্যমান তাওরাতে তাঁর আগমন সম্পর্কে সংরক্ষিত ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। তা না হলে, মুহাম্মদ কেন অবিশ্বাসীদের নিজের সত্যতা সম্পর্কে বোঝানোর জন্য এমন একটি কিতাবের দিকে নির্দেশ করবেন, যা ইতিমধ্যেই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল এবং যেখানে তাঁর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আর ছিল না? লেখকের মতে, এমনটি কোনো অর্থ বহন করত না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্নতাত্ত্বিকেরা তাওরাতের এমন অসংখ্য পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেছেন, যেগুলো মুহাম্মদের সময়ের আগে এবং তাঁর সময়কালে লেখা হয়েছিল। এর অর্থ হলো, মুহাম্মদ যে তাওরাতের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তার পাঠ সম্পর্কে আজও আমাদের জানার সুযোগ রয়েছে।
মুহাম্মদের সময়ের আগে, তাঁর সময়কালে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ের তাওরাতের পাণ্ডুলিপিগুলো তুলনা করলে আমরা আরও দেখতে পাই যে, পাঠের মধ্যে খুব সামান্যই পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে আমাদের কাছে থাকা তাওরাতের পাঠ মুহাম্মদের সময়ের আগে ও তাঁর সময়ে প্রচলিত তাওরাতের পাঠের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই মুহাম্মদ সম্পর্কে তাওরাতে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে—এই দাবি বর্তমানে আমাদের কাছে থাকা তাওরাত পড়েই পরীক্ষা করা সম্ভব। বিশেষ করে যখন অনেক মুসলিমের দাবি হলো, তাওরাতে এখনো মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।
________________________________________
এবার আমরা তাওরাতের একটি অংশের দিকে মনোযোগ দেব। অনেক মুসলিম বিশ্বাস করেন, এই আয়াতগুলোতে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। এখানে মুসা বনী ইসরাঈলকে বলেন:
[১৫] “তোমাদের আল্লাহ সদাপ্রভু তোমাদের মধ্য থেকে, তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে, আমার মতো একজন নবীকে তোমাদের জন্য উত্থাপন করবেন। তোমরা তাঁর কথাই শুনবে—
[১৬] ঠিক যেমন হোরেবে সমবেত হওয়ার দিনে তোমরা তোমাদের আল্লাহ সদাপ্রভুর কাছে চেয়েছিলে। তখন তোমরা বলেছিলে, ‘আমি যেন আর আমার আল্লাহ সদাপ্রভুর কণ্ঠস্বর না শুনি এবং এই বিশাল আগুন আর না দেখি, নইলে আমি মারা যাব।’
[১৭] তখন সদাপ্রভু আমাকে বললেন, ‘তারা যা বলেছে, তা ঠিকই বলেছে।
[১৮] আমি তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো একজন নবীকে তাদের জন্য উত্থাপন করব। আমি আমার বাক্য তাঁর মুখে দেব এবং আমি তাঁকে যা যা আদেশ করব, তিনি তাদের কাছে তার সবই বলবেন।
[১৯] আর আমার নামে তিনি যে বাক্য বলবেন, কেউ যদি তা না শোনে, তবে আমি নিজেই তার কাছে এর জবাব চাইব।’”
— দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৫–১৯ —
এই অংশে মুসা বনী ইসরাঈলের কাছে ভবিষ্যতে একজন নবীর আগমনের কথা ঘোষণা করছেন। এখানে সেই নবীর দুটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়: ১) তিনি হবেন “আমার/তোমার মতো”, অর্থাৎ মুসার মতো; ২) তিনি আসবেন “তোমাদের/তাদের ভাইদের মধ্য থেকে”, অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের ভাইদের মধ্য থেকে।
প্রথম শর্তটি দিয়ে শুরু করা যাক—আগত নবী হবেন “মুসার মতো”। মুসলিম আলেমরা যুক্তি দেন যে, মুহাম্মদ বিভিন্ন দিক থেকে মুসার মতো ছিলেন। দুজনই রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, উভয়েই নতুন আইন ও বিধান নিয়ে এসেছিলেন এবং উভয়েই তাঁদের অনুসারীদের নিয়ে হিজরত করেছিলেন অর্থাৎ নির্যাতনের কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে গিয়েছিলেন। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মুসার মতো মুহাম্মদও আল্লাহর হুবহু বাণী আবৃত্তি করেছিলেন। তাই এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যেতে পারে যে, মুহাম্মদ “মুসার মতো” হওয়ার শর্তটি পূরণ করেন।
তবে আগের প্রবন্ধে আমরা দেখেছি, লেখকের যুক্তি অনুযায়ী হেরা গুহায় মুহাম্মদ যেভাবে ওহি ও নবুওয়াত লাভ করেছিলেন, তা মুসার অভিজ্ঞতার মতো ছিল না।
দ্বিতীয় শর্তটি হলো, আগত নবীকে বনী ইসরাঈলের “ভাইদের মধ্য থেকে” আসতে হবে। মুসলিম আলেমরা এ ক্ষেত্রে বলেন, আরবরা ইসমাইলের বংশধর এবং ইহুদিরা ইসহাকের বংশধর। যেহেতু ইসমাইল ও ইসহাক বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন, তাই একজন আরব হিসেবে মুহাম্মদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর শর্ত পূরণ করেছেন বলে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা যাক:
১. প্রাসঙ্গিক অংশসহ পড়লে, “তোমাদের/তাদের ভাইদের মধ্য থেকে” কথাটির অর্থ হলো, আগত নবীকে বনী ইসরাঈলের বারোটি গোত্রের কোনো একটি থেকে আসতে হবে। অর্থাৎ তাঁকে একজন ইহুদি হতে হবে। কিন্তু মুহাম্মদ ইহুদি ছিলেন না।
২. এমনকি যদি আমরা এই ব্যাখ্যাও গ্রহণ করি যে, “তোমাদের/তাদের ভাইদের মধ্য থেকে” বলতে একজন ইসমাইলীয়কেও বোঝানো হতে পারে, তাহলেও আরেকটি সমস্যা থেকে যায়। আগে আমরা যেমন দেখেছি, তাওরাত মুহাম্মদকে ইসমাইলের বংশধর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয় না। ইসমাইল মক্কায় বড় হননি যেখানে মুহাম্মদের জন্ম হয়েছিল এবং তাঁর সন্তানরাও সেখানে বড় হয়নি। ইসমাইল বা তাঁর সন্তানরা জীবনে একবারও মক্কায় এসেছিলেন এমন কোনো ইঙ্গিত তাওরাতে পাওয়া যায় না। তাছাড়া, ইসমাইল কোনো আরব নারীকে বিয়ে করেননি; বরং মিসর দেশের একজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন। ফলে তাঁর নিকটবর্তী বংশধররা আরব ছিল না। তাই লেখকের যুক্তি অনুযায়ী, মুহাম্মদ যে ইসমাইলের বংশধর ছিলেন এবং সেই সূত্রে ভবিষ্যতে আগত নবী সম্পর্কে মুসার এই ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করেছিলেন এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে তাওরাত থেকে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
________________________________________
তাওরাতের আরেকটি অংশকে কিছু মুসলিম মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী বলে মনে করেন। এই অংশটি তাওরাতের একেবারে শেষদিকে পাওয়া যায়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে মুসা একটি দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমে বনী ইসরাঈলকে আশীর্বাদ করেছিলেন। সেই বক্তব্যের শুরুতে বলা হয়েছে:
[১] আল্লাহর বান্দা মুসা তাঁর মৃত্যুর আগে বনী ইসরাঈলকে যে আশীর্বাদ করেছিলেন, তা হলো এই।
[২] তিনি বললেন, “সদাপ্রভু সিনাই থেকে এলেন এবং সেয়ীর থেকে আমাদের ওপর উদিত হলেন; তিনি পারান পর্বত থেকে দীপ্তিমান হলেন। তিনি অযুত অযুত পবিত্রজনের মধ্য থেকে এলেন; তাঁর ডান হাতে ছিল জ্বলন্ত আগুন।”
— দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:১–২ —
এখানে তিনটি স্থানের নাম লক্ষ করুন: সিনাই, সেয়ীর এবং পারান পর্বত। সিনাই হলো সেই স্থান যেখানে মুসা ওহি লাভ করেছিলেন। কেউ কেউ যুক্তি দেন যে, সেয়ীর হলো সেই স্থান যেখানে ঈসা ওহি লাভ করেছিলেন, আর পারান পর্বত বলতে মক্কার পাহাড়গুলোকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে মুহাম্মদ ওহি লাভ করেছিলেন। তাই কেউ কেউ মনে করেন, এটি একটি ভবিষ্যদ্বাণী যেখানে বলা হয়েছে যে, প্রায় ১,৯০০ বছর পর আল্লাহ মুহাম্মদকে ওহি দেবেন।
কিন্তু এই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য? মুসা ও বনী ইসরাঈল মিসরে ফিরাউনের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পর প্রতিশ্রুত দেশ কেনানের দিকে যাচ্ছিলেন, যা বর্তমান ফিলিস্তিন অঞ্চলে অবস্থিত। তারা যখন কেনানের সীমানার কাছে পৌঁছায়, তখন দেশটির অবস্থা অনুসন্ধান করার জন্য কয়েকজন লোককে পাঠানো হয়। তাওরাতে বলা হয়েছে:
“চল্লিশ দিন ধরে দেশটি অনুসন্ধান করার পর তারা ফিরে এল। তারা পারান মরুভূমির কাদেশে মুসা, হারুন এবং বনী ইসরাঈলের সমস্ত সমাবেশের কাছে ফিরে এল।”
— গণনাপুস্তক ১৩:২৫ —
লক্ষ করুন, পারান থেকে প্রতিশ্রুত দেশ ফিলিস্তিনে যাওয়া, দেশটি অনুসন্ধান করা এবং আবার ফিরে আসতে সেই অনুসন্ধানকারীদের মাত্র চল্লিশ দিন লেগেছিল! পারান যদি মক্কার কাছাকাছি হতো, তাহলে লেখকের হিসাব অনুযায়ী শুধু একদিকে যেতেই তাদের প্রায় ৪০ দিন সময় লাগত। সেক্ষেত্রে যাওয়া-আসাতেই মোট প্রায় ৮০ দিন লাগত এর সঙ্গে দেশটি অনুসন্ধান করার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময়ও যোগ হতো। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অংশে পারানের অবস্থানকে “কাদেশ” নামক স্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কাদেশ সিনাই উপদ্বীপে বর্তমান মিসরে প্রতিশ্রুত দেশের সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত। লেখকের মতে, এটি দেখায় যে পারান তাওরাত অনুযায়ী যেখানে ইসমাইলও বসতি স্থাপন করেছিলেন মক্কার কাছাকাছি কোথাও হতে পারে না।
তাওরাতের বর্ণনায় মক্কার কোনো ভূমিকা নেই। তাই লেখকের মতে, দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:২ মুহাম্মদ সম্পর্কে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়। আয়াতটি সরলভাবে পড়লে যা বলা হয়েছে, তা হলো বনী ইসরাঈল যখন মিসর থেকে বেরিয়ে কেনানে যাওয়ার আগে মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন আল্লাহ এই স্থানগুলোতে সিনাই, সেয়ীর ও পারানে তাদের কাছে এসেছিলেন। অতএব, লেখকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই আয়াতে ভবিষ্যতের ঘটনা নয়, বরং অতীতের ঘটনাগুলোর কথাই বলা হয়েছে।
________________________________________
তাহলে তাওরাতে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে কি না এই প্রশ্নে আমরা কী বলতে পারি? কুরআন যদি সত্য হয়, তাহলে তাওরাতে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী থাকার কথা। কারণ কুরআন বলে যে, আহলে কিতাব তাদের ধর্মগ্রন্থে মুহাম্মদ সম্পর্কে লেখা দেখতে পায় (সূরা আল-আরাফ ৭:১৫৭)। কিন্তু লেখকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাওরাতের আলোচিত আয়াতগুলোর কোনোটিই মুহাম্মদ সম্পর্কে নয়। এমনকি মুহাম্মদের সময়ের কিংবা তাঁর সময়েরও আগের তাওরাতের পাণ্ডুলিপিগুলোতেও মুহাম্মদ বা তাঁর অনুসারীদের সম্পর্কে অন্য কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।
প্রিয় পাঠক, এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা প্রথম অংশ “কুরআন ও তাওরাত”-এর শেষ প্রবন্ধের সমাপ্তিতে পৌঁছেছি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত সব প্রবন্ধের প্রধান বিষয়গুলো এবার সংক্ষেপে পর্যালোচনা করা যাক। অনুগ্রহ করে পড়া চালিয়ে যান: